Home
 
কলারোয়া আ.লীগের সভাপতি ও তার দুই ভাইয়ের
চাঁদাবাজি, মানুষ অসহায়

আজকের কলারোয়া - 24/09/2015
কলারোয়া আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ স্বপন ও তার দুই ভাইয়ের চাঁদার টাকা প্রদান করতে করতে অসহায় হয়ে পড়েছেন উপজেলার ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন কৌশলে উপজেলা আওয়ামীলীগের এই শীর্ষ নেতা ও তার অনুগতরা প্রায় প্রতিদিন হাতিয়ে নিচ্ছেন কয়েক লাখ টাকা। সম্প্রতি দৈনিক ইত্তেফাকে তার দুর্নীতির চিত্র ও ইনডিপেন্ডেন্ট চ্যানেলে উপজেলার টিআর, কাবিখা প্রকল্পে অনিয়মসহ কলারোয়া পৌর সদরের তুলশীডাঙ্গা গ্রামে নির্মিত বিলাসবহুল বাড়ির সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর আঁতকে উঠেছেন সাধারণ মানুষসহ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। তবে ভয়ে এসব বিষয় নিয়ে কেউ আলোচনা করতে সাহস পান না। সরেজমিনে ও ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে উপজেলার এ ভয়াবহ চিত্র পাওয়া গেছে। এসব অবৈধ আয়ের মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলছেন কলারোয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ফিরোজ আহম্মেদ স্বপন ও তার পরিবারের লোকেরা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফিরোজ আহম্মেদ স্বপন কলারোয়া উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পরই প্রথমে কাজ শুরু করেন ভারত সীমান্তের মধ্য দিয়ে। ভারত থেকে চোরাইপথে আসা বিভিন্ন মাদক এবং বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে যাওয়া সোনার বার নিয়ন্ত্রণ করতে থাকেন। আর এই সীমান্তের ব্যবসা থেকে মাসে তিনি গড়ে এক টাকার বেশি অবৈধভাবে আয় করতে শুরু করেন। গত কয়েক মাস আগে তিনি মাদক ব্যবসা থেকে সরে আসেন। কিন্তু সোনা চোরাচালানে তার বড় অংকের অর্থ বিনিয়োগ থাকায় এ ব্যবসাটি তিনি এখনও তার নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন বলে সীমান্তের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। জানা গেছে, সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্ত এখন সোনা পাচারের নিরাপদ রুট হওয়ায় ঢাকা থেকে তার নিজস্ব গাড়িতে আসা সোনা ভারতে পাচারের জন্য রয়েছে বাংলাদেশ-ভারতের একাধিক বিশ্বস্ত সহযোগী। তার এক বাল্যবন্ধু যার সাথে আশির দশকে একত্রে ছাত্র রাজনীতি করেছেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়ায় নব্বইয়ের দশকে দেশ ছেড়ে স্বপরিবারে ভারতে পাড়ি জমান। পরে গত ১৪/১৫ বছর আগে তার পরিবার ভারতে রেখে তিনি একা বাংলাদেশে আসেন। বর্তমানে তিনি দ্বৈত নাগরিক এবং দেশে থাকা বন্ধুর সহযোগিতায় কলারোয়া উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। ২/৩ মাস পর পর ভারতে যেয়ে স্ত্রী, সন্তানদের সাথে দেখা করে আসেন। ভারতে থাকা আত্মীয়-স্বজন তার এ সোনা পাচার কাজে সহযোগিতা করছেন। তারা সুযোগ বুঝে চোরাইপথে সীমান্ত পার হয়ে যাওয়া সোনা নির্দিষ্ট গন্তেব্যে পৌঁছে দেন। আর ভারতে থাকা তার সেই বন্ধুর স্বজনদের সহায়তায় উপজেলা চেয়ারম্যান ভারতীয় ব্যাংকে কয়েক কোটি টাকা জমা রেখেছেন বলে ব্যাপক জনশ্রুতি রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলারোয়ার এক সাংবাদিক জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের সভাপতির বিরুদ্ধে কোন খবর প্রকাশিত না হয় সে জন্য তিনি তার বিদেশী নাগরিক বন্ধুকে দিয়ে কলারোয়া প্রেস কাবটিও দখল করে রেখেছেন। সম্প্রতি কলারোয়া প্রেস কাবের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তিনি জোরপূর্বক নির্বাচন না দিয়ে সিলেকশনের মাধ্যমে তার বাল্যবন্ধুকে বর্তমানে সভাপতি করেছেন। কলারোয়া উপজেলা শিক্ষা বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ১৩৮ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন করে নৈশপ্রহরী কাম পিওন নিয়োগ দেয়া হয়েছে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে। এ ছাড়া ৪৬ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিয়োগ চূড়ান্ত পর্যায়ে। এসব স্কুলের ১৮৪ জন প্রার্থীর কাছ থেকে মাথা পিছু দুই লাখ করে টাকা ঘুষ গ্রহণ করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান। এছাড়া তিনি উপজেলার হঠাৎগঞ্জ মাদ্রাসায় প্রার্থীদের নিকট থেকে ১৫ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে দুইজন শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করেছেন। তিনি উপজেলার কামারালী হাইস্কুলে আব্দুস সাত্তারকে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দান করে স্কুলের সভাপতির মাধ্যমে ২৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ওই স্কুলে চারজন শিক্ষক নিয়োগ করে ২৪ লাখ টাকা স্কুলের সভাপতি ও তার মাধ্যমে ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছেন। উপজেলা খোরদো বহুমুখি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে রবিউল ইসলামকে নিয়োগ দান করে স্কুলের সভাপতির মাধ্যমে ১৯ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। এছাড়া তিনি তার নিজ শ্যালক বদরুজ্জামান বিপ্লবকে উপজেলার এক মাদরাসার শিক্ষক থেকে কলারোয়া জিকেএমকে গার্লস পাইলট হাইস্কুলে অভৈধভাবে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দানে স্কুল কমিটিকে বাধ্য করেছেন। কলারোয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের সভাপতি হওয়ার পর ক্ষমতার প্রভাবে তিনি বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। বর্তমানে তার নিজ দুই বাহিনী দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করেন সমগ্র কলারোয়া উপজেলা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কলারোয় পৌর সদরসহ ১২ টি ইউনিয়নে টেস্ট রিলিফের আওতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানে ১২৯ টি সৌর বিদ্যুৎ বসানো হয়। এসব সৌর বিদ্যুৎ গ্রাহকরা জানান, প্রতি দেড়টন টিআরের চালের পরিবর্তে একটি করে সৌর বিদ্যুৎ বরাদ্দ দেয়া হয়। কলারোয়া পল্লী বিমোচন ফাউন্ডেশন এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। বাস্তবায়নকারী ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা বলেন, ৪৮ হাজার টাকার দেড়টন চালের বিপরীতে যে সৌরবিদ্যুৎ প্রদান করা হয়েছে তার দাম ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা। বাকি টাকা কে বা কারা আত্মসাত করেছেন ( তিনি ভয়ে নাম বলতে রাজি হননি)। এছাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, কর্মসৃজন কর্মসূচির শ্রমিকদের কাজের প্রাপ্য টাকা থেকে এ বছর উপজেলা চেয়ারম্যানকে ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। কলারোয়া পৌরসভার একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, উপজেলা চেয়ারম্যান এলজিইডির টেন্ডারে একক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আধিপত্য বিস্তার করে পৌরসভার টেন্ডার ভাগ-বাটোয়ারাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের অর্ধেক কেটে রেখে আত্মসাত করে আসছেন। তার নিজ দুই ভাই কলারোয়া থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে গ্রামের বিভিন্ন সালিশ, মামলা, আসামি ছাড়িয়ে নেয়া, জমি কেনা-বেচার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে কলারোয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল আলম মল্লিক জানান, আমি এসব বিষয়ে কোন খবর রাখি না। এটা উপজেলার সাধারণ মানুষ ভালো বলতে পারবে। কলারোয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও দুইবারের নির্বাচিত উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু জানান, এ ধরনের অভিযোগ আমার জানা নেই। আমি বর্তমানে সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকলে আমার সাথে তো কেউ বলে না। আমি উপজেলার জনগণের জন্য রাজনীতি করি। এর বেশি কিছু আমি বলতে পারবো না। এ ব্যাপারে কলারোয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের সভাপতি ফিরোজ আহমেদ স্বপন বর্তমানে ঢাকাতে অবস্থান করায় তার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অবহেলিত কলারোয়া উপজেলায় এখন ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে। তিনি বলেন, তার দলের ভিতর জামায়াত, বিএনপিপন্থি একটি অংশ এসব উন্নয়ন সহ্য করতে না পেরে তার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা সংবাদ সাংবাদিকদের কাছে সরবরাহ করছে। তিনি বলেন, বর্তমানে তার জনপ্রিয়তা দেখে এসব মহল তার বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছে। এছাড়া এসব মিথ্যা তথ্য প্রচার করে কলারোয়ায় আগামী পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগকে পরাজিত করার চেষ্টা করছে। এসব তথ্য ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।

সূত্র - দৈনিক লোকসমাজ
 



গন্তব্য কলারোয়া    
Product Image Product Image


 
    
Copyright : Kalaroa.com, 2019
Email : info@kalaroa.com