Home
 
কলারোয়ায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গাইডবই বাধ্যতামূলক!
বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার বৃদ্ধি

আজকের কলারোয়া - 14/04/2016
সরকারের নিয়মনীতি উপেক্ষা করে কলারোয়া উপজেলায় বিভিন্ন বইয়ের দোকানে অবাধে বিক্রি হ”েছ নিষিদ্ধ গাইড ও নোট বই। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটর মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সাথে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এ সব নোট বই, গাইড ও কোম্পানির তৈরী করা সিলেবাস কিনতে বাধ্য করছে। যার কারনে শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হ”েছ সৃজনশীল শিক্ষা ব্যব¯’া থেকে এবং দিনের পর দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় গুলিতে শিক্ষার্থী উপ¯ি’তি কমে যা”েছ অভিযোগ সচেতন মহলের। উপজেলার কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, উপজেলার ৪৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অনুপাতে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সাথে জননী প্রকাশনী, হাসান বুক হাউজ, পাঞ্জেরী, পুথিনালয় ও পপি কোম্পানির জেলা ম্যানেজারদের সাথে এ সব স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলার বইয়ের দোকান ও উপজেলার কতিপয় কয়েকজন সাংবাদিকদের মোটা অংকের চুক্তিবদ্ধ হয়ে নিন্ম মানের এ নোট বই ও গাইড শিক্ষার্থীদের কিনতে বাধ্য করছে। তারা আরো জানান, প্রতি বছর প্রকাশ্যে টাকার বিনিময়ে এ ধরণের শিক্ষা বানিজ্য হলেও প্রশাসন কোন ব্যব¯’া গ্রহন করেন না। খোদ উপজেলা প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে উপজেলার বিভিন্ন বইয়ের দোকানে নিন্ম মানের গাইড কেনার জন্য শিক্ষার্থীসহ অবিভাবকদের ভীড় করছে। চুক্তিবদ্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাগছে লিখে দেয় নির্দিষ্ঠ নোট বই ও গাইড ছাড়া অন্য কোন কোম্পানির বই কিনতে পারছে না। তারা আরো অভিযোগ করে বলেন, এ মোটা অংকের অর্থ বাণিজ্যের বিষয়টি সংবাদপত্রে রিপোর্ট না করার জন্য উপজেলার কয়েকজন প্রভাবশালী সাংবাদিকদের ৮০ হাজার টাকায় ম্যানেজ করেছে বলে শিক্ষার্থীদের অবিভাবকরা এ অভিযোগ করেন। বই কিনতে আসা উপজেলার জিকেএমকে মডেল পাইলট হাইস্কুলের এক শিক্ষার্থীর অবিভাবক কলারোয়া পৌর সদরের নূর আমীন লেলিন জানান, স্কুল থেকে তালিকা দেয়া পাঞ্জেরী কোম্পানির বই ও গাইড ছাড়া অন্য কিছু কেনা যাবে না সে জন্য বাধ্য হয়ে দাম বেশী ও নিন্ম মানের হলেও এসব বই কিনতে বাধ্য হ”িছ। উপজেলার চন্দনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খোরদো সালেহা হক বালিকা বিদ্যালয়, কামারালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক জানান, জননী প্রকাশনী কলারোয়া মোট ২২ বিদ্যালয়ের সাথে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষকরা ৪৫ লাখ টাকায় এ কোম্পানির নিন্ম মানের বই ও গাইড শিক্ষার্থী চালানোর জন্য মৌখিক চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়া অন স্কুলের সাথে হাসান বুক হাউজ, পাঞ্জেরী, পুথিনালয় ও পপি কোম্পানির বই ও গাইড চালানোর জন্য মোটা অংকের টাকার চুক্তিবদ্ধ কয়েছে। এসব স্কুলের শিক্ষার্থীদের অবিভাবকরা অভিযোগ করে জানান, সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষকরা জননী প্রকাশনীর নিন্ম মানের গাইড, নোট বই ও সিলেবাস কোম্পানীর সাথে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে চুক্তিবদ্ধ হওয়ায় চড়া মূল্যে শিক্ষার্থীদের এসব নিষিদ্ধ ব্যাকারণ, গ্রামারসহ বিভিন্ন গাইড বই কিনতে বাধ্য করছেন। খোজ নিয়ে জানাগেছে, কলারোয়া উপজেলায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্য বইয়ের পাশাপািশ গাইড বই ও ব্যাকারণসহ অনান্য বইয়ের মান খুবই নিন্ম মানের ও চড়া মূল্যের কারনে বই কিনতে পারছে না অধিকাংশ শিক্ষার্থী। আর এ কারনে অনেকে স্কুলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয়েও বই ও গাইড কিনতে না পারায় শিক্ষকদের ভয়ে স্কুলে যা”েছ না। এর কারন হিসেবে শিক্ষার্থীদের অবিভাবকরা স্কুল শিক্ষকদের গাইড বই কেনার নির্দেশ দেয়াকে দায়ী করছেন। অবিভাবকরা জানান, কলারোয়া উপজেলার অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র, ছাত্রীরা কৃষক পরিবারের সন্তান। তাদের পক্ষে চড়া মূল্যে এ নিন্ম মানের নোট বই, ব্যাকারন, গ্রামার কেনা সম্ভব না। ফলে অসহায় গরীব অবিভাবকরা চরম হতাশায় ভুগছেন এমন কি তাদের সন্তানদের পড়াশুনা বন্ধ করার মত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হ”েছন। যার কারনে উপজেলায় শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। কলারোয়া উপজেলার এ সব বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা মোটা অংকের টাকা নিয়ে যশোরের হাসান বুক ডিপো, জননী পাবলিকেশন, পাঞ্জেরী পাবলিকেশনের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে উপজেলার ৪৮ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ সব নিন্ম মানের ব্যকারন গাইড, নোট বইসহ বিভিন্ন বই ৬ষ্ট শ্রেনী থেকে দশম শ্রেনী পর্যন্ত বাংলা ব্যকারণ, ইংরেজি গ্রামার, বিদ্যালয়ের ছাত্র, ছাত্রীদের জোর পূর্বক কিনতে বাধ্য করছেন। তারা আরো জানান, এমন কি চুক্তিবদ্ধ কোম্পানির বই ও গাইড না কিনলে তাদের স্কুলে আসতে নিষেধ করা হ”েছ অথবা বিনা কারনে মারপিট করছে। যার ফলে কোমলমতি ছাত্র, ছাত্রীরা বই কিনতে না পারলে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দি”েছ। উপজেলার কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমরা বিদ্যালয়ে নিন্ম মানের গাইড কিনতে নিষেধ করায় জননী পাবলিকেশনের ম্যানেজার মিন্টু বিদ্যালয়ে এসে আমাদের হুমকি দিয়ে বলেন, আমার কোম্পানী থেকে উপজেলার প্রভাবশালী থেকে শুরু করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা মোটা অংকের টাকা কমিশন হিসেবে দেওয়া হয়েছে। সে জন্য বিদ্যালয়ে আমার কোম্পানীর গাইড ছাত্র, ছাত্রীরা কিনবে, আপনারা এ বিষয়ে মাধা ঘামাবেন না। এ বিষয়ে জননী কোম্পানী পাবলিকেশানস কলারোয়া উপজেলার দায়িত্ব প্রাপ্ত ম্যানেজার এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমরা কাউকে ঘুষ বা গাইড কেনার জন্য হুমকি প্রদান করেনি। কিনি বলেন, উপজেলার প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কয়েকজন সাংবাদিককে কিছু চা-বিস্কুট খাওয়ার জন্য একটু ব্যবস্থা করেছি। আমাদের গাইডের মান ভালো সে জন্য তারা উপজেলার বিদ্যালয় গুলিতে গাইড চালাতে আমাদের সাহায্য করছে। এ বিষয়ে কলারোয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ জানান, আমি এ বিষয়ে কিছু জানিনা। সরকার গাইড বই নিষিদ্ধ করেছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।


 



গন্তব্য কলারোয়া    
Product Image Product Image


 
    
Copyright : Kalaroa.com, 2019
Email : info@kalaroa.com